ফেনীতে মাঝরাতে প্রেমিকাকে জন্মদিনের উপহার দিতে প্রেমিকার বাড়িতে ঢুকে চুরির অভিযোগে ধরা পড়ে গণধোলাই খেলেন এক প্রেমিক। প্রেমিকার পরিবার প্রেমিক পাশের গ্রামের আজাদকে মাঝরাতে আটক করে রশি দিয়ে বেঁধে ছবি তুলে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ‘চোর’ উল্লেখ করে ছড়িয়ে দেয়। রাতারাতি ভাইরাল হয়ে যায় প্রেমিকের ছবি।

২৯ আগস্ট ২০২১ রাতে উপজেলার বগাদানা ইউনিয়নের তাকিয়া বাজার সংলগ্ন পাইকপাড়া গ্রামের তাকিয়া আশ্রাফ আলীর বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় দুই পরিবারের পক্ষ থেকে পাল্টাপাল্টি মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলার প্রেক্ষিতে প্রেমিক হামিদুর রহমান আজাদ ও প্রেমিকার ভাই দীন মোহাম্মদকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। তাদের দুইজনকে সোমবার ৩০ আগস্ট ২০২১ দুপুরে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়।

স্থানীয় সূত্র জানায়, উপজেলার বগাদানা ইউনিয়নের আবদুল হাইয়ের কন্যা ও এক পুত্রকে প্রায় ৫ বছরর আগে থেকে প্রাইভেট পড়াতেন আজাদ।

সে সূত্রে, গত ২ বছর থেকে আবদুল হাইয়ের স্কুল পড়ুয়া কন্যার (১৩) সাথে আজাদের প্রেমের সম্পর্ক গড়ে উঠে।

প্রেমিকার ইচ্ছায় ২৯ আগস্ট ২০২১ রাত ২ টায় ওই ছাত্রীকে জন্মদিনের উপহার দিতে ঘরের ভেতরে ঢুকেন প্রেমিক আজাদ। প্রেমিকার পিতা ও ভাই টের পেয়ে যায়। এবং  আজাদকে আটক করে বেধম মেরে ঘরের সামনে  বেঁধে রাখে। এরপর ছবি তুলে দীন মোহাম্মদের ফেসবুক আইডিতে খুঁটিতে বাঁধা আজাদের ছবি পোস্ট করেন।

ফেসবুকে দেয়া পোস্টে তিনি উল্লেখ করেন ‘তাকিয়া বাজারে আশ্রাফ আলী কবিরাজ বাড়িতে ধরা খেয়েছে স্বর্ণ চোর। রাত তিনটায় দরজা ভেঙে ঘরে ঢুকেছে, পুলিশ প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ।’

খবর পেয়ে পুলিশ প্রেমিক আজাদকে উদ্ধার করে। এরপর সোনাগাজী হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে তাকে পুলিশ হেফাজতে নেয়া হয়।

মেয়ের বাবা আবদুল হাই অভিযোগ করেন, দীর্ঘ দুই বছর যাবত আজাদ তার স্কুল পড়ুয়া কন্যাকে প্রেম ও বিয়ের প্রস্তাবে উত্যক্ত করে আসছে বখাটে আজাদ। তিনি ও তার মেয়ে বিয়ে ও প্রেমের প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় আজাদ রোববার রাতে সুকৌশলে ঘরে ঢুকে তার কন্যাকে জোরপূর্বক ধর্ষণের চেষ্টা চালায় বলে তিনি দাবি করেন। ত তিনি আজাদকে একমাত্র আসামি করে তার স্কুল পড়ুয়া কন্যাকে ধর্ষণ চেষ্টার অভিযোগে মামলা দায়ের করেছেন।

অপর দিকে আজাদের পিতা বেলাল হোসেন অভিযোগ করেন, আবদুল হাইয়ের কন্যাকে প্রাইভেট পড়ানোর সূত্র ধরে তার ছেলের সাথে ওই স্কুল ছাত্রীর প্রেমের সম্পর্ক গড়ে উঠে। রোববার মেয়েটির জন্মদিন ছিল। মেয়েটি বিষয়টি তার ছেলেকে জানালে সে দুই প্যাকেট লজেন্স ও একটি কলম উপহার নিয়ে তাঁর বাড়িতে যায়। রাতে সেখানে খাবার ও খায়।

কিন্তু, গভীর রাতে তার ছেলেকে নির্মমভাবে বৈদ্যুতিক খুঁটির সাথে বেঁধে শারীরিক নির্যাতন চালিয়ে আহত করে আব্দুল হাইয়ের পরিবার। দরজা ভেঙে ঘরে প্রবেশ করে কথিত স্বর্ণ চুরির অভিযোগ এনে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছবিও ছড়িয়ে দেয়। তাই তিনি ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে দীন মোহাম্মদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছেন।

পুলিশ মেয়ের ভাইকে ও প্রেমিক আজাদকে জেল হাজতে পাঠিয়েছে।

পুলিশ তদন্ত করছে সত্য উদঘাটনের জন্য। আভিযোগ প্রমাণিত হলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।




 

Leave a reply